প্রায় চার মাস হরমুজ প্রণালিতে অবরুদ্ধ থাকা ‘বাংলার জয়যাত্রা’র ১৬ নাবিক মঙ্গলবার দেশে ফিরছেন। সোমবার (২০ জুলাই) রাতে ‘বাংলার জয়যাত্রা’ জাহাজের চিফ ইঞ্জিনিয়ার রাশেদুল হাসান গণমাধ্যমকে জানান, জাহাজের ১৭ জন নাবিক দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবান বন্দর থেকে ‘সাইন অফ’ করেছেন।“আমি ছাড়া অন্যরা আগামীকাল মঙ্গলবার বিকেল ৫টা ২৫ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।”
জাহাজের ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলামসহ মোট ১৬ জন নাবিক সোমবার সেখানকার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানের কিং সাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমানে দুবাইয়ের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা হন। মঙ্গলবার সকালে দুবাই থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে তাদের। চিফ ইঞ্জিনিয়ার রাশেদুল হাসানও জাহাজ থেকে সাইন অফ করেছেন। তবে তিনি এখনই দেশে ফিরছেন না। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে যাবেন এবং পরে সেখান থেকে দেশে ফিরবেন বলে জানিয়েছেন।
অবরুদ্ধ দশা কাটিয়ে গত ২৬ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দর থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবান বন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল রাষ্ট্রায়ত্ত্ব প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’। জাহাজের অবস্থান নির্ণয়কারী ওয়েবসাইট ‘মেরিন ট্রাফিক’-এর তথ্য অনুযায়ী, ১৬ জুলাই জাহাজটি ডারবান বন্দরে পৌঁছায়।
ডারবান যাওয়ার সময় জাহাজটিতে ৩৭ হাজার ৫০০ টন সার ছিল। এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে সৌদি আরবের রাস আল খাইর বন্দর থেকে এসব সার বাংলার জয়যাত্রায় বোঝাই করা হয়েছিল। সেই সার ডারবান বন্দরে খালাস করা হচ্ছে। চিফ ইঞ্জিনিয়ার রাশেদুল হাসান বলেন, “এরপর জাহাজে সুগার (চিনি) লোড করা হবে। তারপর জাহাজে থাকা অন্য নাবিকরা জাহাজ নিয়ে যাবেন মালয়েশিয়ায়।”
১১৫ দিন হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকার পর ২৩ জুন বাংলাদেশ সময় রাত ৩টার দিকে প্রণালি অতিক্রম করে ‘বাংলার জয়যাত্রা’। সেদিনই সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দরে নোঙর করেছিল জাহাজটি। বিএসসি মালিকানাধীন ‘বাংলার জয়যাত্রা’জাহাজটি সিঙ্গাপুরভিত্তিক একটি কোম্পানির অধীনে ভাড়ায় পরিচালিত হচ্ছে। জাহাজটির ৩১ জন নাবিকের সবাই বাংলাদেশি। ২৭ ফেব্রুয়ারি জাহাজটি দুবাই এর জেবেল আলী বন্দরে ভেড়ার পরদিনই ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরু হয়। এরপর তিনবার উদ্যোগ নিয়েও হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিতে ব্যর্থ হয় জাহাজটি। শেষ পর্যন্ত ২২ জুন সকালে শারজাহ বন্দরের বহির্নোঙর থেকে রওনা হয়ে পরদিন প্রণালি পার হয় জয়যাত্রা।